সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ক্লান্ত লাগে, শরীর দুর্বল লাগে, কিছুতেই এনার্জি পাওয়া যায় না
অনেক পেশেন্টেরই অভিযোগ- সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ক্লান্ত লাগে, শরীর দুর্বল লাগে, কিছুতেই এনার্জি পাওয়া যায় না। অথচ রাতে ঠিকমতো ঘুমিয়েছে, তারপরও কেন এমন হয়? আসলে এর পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে, যা আমরা খেয়াল করি না।
প্রথম কারণ হতে পারে শরীরে অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া। অনেকেই রাতে ঘরের জানালা বন্ধ রেখে ঘুমান, যার ফলে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল হয় না। আবার, অনেকের স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকতে পারে, যেখানে ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হওয়ার মতো অনুভূতি হয় এবং ব্রেইন ঠিকঠাক রেস্ট নিতে পারে না। ফলে সকালে উঠে মাথা ভার লাগে এবং অলসতা কাজ করে।
আরেকটি বড় কারণ হলো অতিরিক্ত ব্লু লাইট এক্সপোজার, এটা এখন এতো কমন! রাতে ঘুমানোর আগে যদি মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি বেশি ব্যবহার করেন, তাহলে মেলাটোনিন সিক্রেশন ঠিকমতো হয় না, যার ফলে ঘুম গভীর হয় না। গভীর ঘুম না হলে সকালে উঠে ক্লান্ত লাগবে এটাই তো স্বাভাবিক।
রাতে দেরীতে ঘুমালে ডেলটা স্লিপ ওয়েভ মিস করবেন, এতে ঘুম গভীর হবে না। যারা রাত একটার পরে নিয়মিত ঘুমাতে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে এই সমস্যা হওয়া খুব স্বাভাবিক।
ডিহাইড্রেশনও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। সারারাত ঘুমানোর পর আমাদের শরীর অনেকটা পানিশূন্য অবস্থায় চলে যায়। শরীর ডিহাইড্রেট থাকলে, মাথা ব্যথা বা ভার ভার লাগতে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রে সকালে দুর্বল লাগার আরেকটি কারণ হলো ব্লাড সুগার ইমব্যালেন্স। রাতে যদি অতিরিক্ত মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খান, তাহলে সকালে ব্লাড সুগার লেভেল হঠাৎ কমে যেতে পারে। এতে মাথা ঘোরা, ঝিমুনি ভাব অনুভব করতে পারেন।
ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়ামের ঘাটতিও একটা অন্যতম কারন। এই দুই মিনারেল ঘুম গভীর করতে সাহায্য করে। কিন্তু যদি শরীরে এগুলোর ঘাটতি থাকে, তাহলে রাতের ঘুম ঠিকঠাক হয় না এবং সকালে উঠে শরীর ক্লান্ত লাগে।
আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি থাকলেও সকাল বেলা এনার্জি কমে যেতে পারে। আয়রন রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন পরিবহন করে, আর বি-১২ নিউরোট্রান্সমিশন ঠিক রাখে। যদি এই দুইটি উপাদানের অভাব থাকে, তাহলে ঘুমের পরও শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল লাগে।
আরেকটি কারণ হলো শরীরে সাইলেন্ট ইনফ্লামেশন থাকা। অনেক সময় শরীরে কোনো প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন থাকলে তা আমাদের সেলুলার এনার্জি কমিয়ে দেয়, যার ফলে আমরা সারাদিন অলস অনুভব করি।
✅✅ এই সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য কিছু সহজ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। রাতে শোবার আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার কমানো উচিত যেন মেলাটোনিন ঠিকমতো কাজ করতে পারে। সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা দরকার। খাবারের দিকে নজর দিতে হবে, বিশেষ করে রাতের খাবারে বেশি কার্ব না খেয়ে প্রোটিন ও ফাইবার বেশি রাখা উচিত, যেন ব্লাড সুগার লেভেল ঠিক থাকে। ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে ঘুম ভালো হবে এবং সকালে উঠে ফ্রেশ লাগবে। এছাড়া, নিয়মিত আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ পরীক্ষা করানো জরুরি, যাতে জানা যায় শরীরে এসব নিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি আছে কিনা।
সকাল বেলা ক্লান্ত লাগা কোনো সাধারণ ব্যাপার না। এজন্য আমি পেশেন্টকে বলি প্রতিটা ছোট খাটো ব্যপার উল্লেখ করবেন, এতে আমার জন্য এসেস করা সহজ হয়। তারপরো পেশেন্টরা এইসব উল্লেখ করে না, জিজ্ঞেসা করে করে বের করতে হয়, অথচ এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল দেয়। নিউট্রিশন এর গন্ডি এখন এতো বিশাল আর এমনভাবে বাড়ছে, আমরা নিউট্রিশন দিয়ে এখন অনেক কিছুই সমাধান করতে পারি ইন শা আল্লাহ, ড্রাগস এর উপর নির্ভরশীলতা আর কতো!
